Tista Voice.com উড়ো কথায় নয়, তথ্যানুসন্ধানে ছুটে যায়..
ঢাকারবিবার , ২৬ জুন ২০২২
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. একুশে বইমেলা
  5. কৃষি ও প্রকৃতি
  6. ক্যাম্পাস
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. জবস
  10. জাতীয়
  11. জোকস
  12. তথ্যপ্রযুক্তি
  13. দেশজুড়ে
  14. ধর্ম
  15. নারী ও শিশু

দহগ্রাম ‘তিনবিঘা করিডোর মুক্ত দিবস’র সূচনা হলো যেভাবে…

এবি সিদ্দিক
জুন ২৬, ২০২২ ৪:৫৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান বিভক্তের পর ভারতের অভ্যন্তরে ২২.৬৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের দহগ্রাম- আঙ্গারপোতা পূর্ব পাকিস্তানের অংশে পড়ে। সেই থেকে ভারতের কাছে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলাধীন দহগ্রাম আঙ্গরপোতা এলাকার মানুষ। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালের ২৬ জুন বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরসিমা রাও মুজিব- ইন্দিরা চুক্তি মতে, পঞ্চগড়ের বেরুবাড়ী ছিটমহলের বিনিময় তিনবিঘার উপর দিয়ে চলাচলের জন্য প্যাসেজ ডোর হিসেবে করিডোর উদ্বোধন করেন।

দৈর্ঘ্য ১৭৮ ও প্রস্থ ৮৫ মিটার তিনবিঘার জমিটুকু ৯৯ বছরের চুক্তিতে ভারত সরকার লিজ দেন বাংলাদেশকে। ১৯৯২ সালের ২৬ জুন রেশনিং পদ্ধতিতে ‘তিনবিঘা করিডোর’ এক ঘণ্টা পর পর দিনে ৬ ঘণ্টা খোলা রাখা শুরু করে। তখন কিছুটা হলেও মুক্তির স্বাদ পায় দহগ্রাম ও আঙ্গোরপোতা দুটি ছিটমহলের ১৮ হাজার মানুষ। ২০০১ সালের ২১ এপ্রিল আরো ৬ ঘণ্টা বাড়িয়ে সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত করিডোর গেইট খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১১ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তিনদিনের সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং বাংলাদেশ সফরে এলে গেইটটি ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়। ওই সালের ১৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দহগ্রাম সফরের মধ্য দিয়ে তিনবিঘা করিডোর ২৪ ঘণ্টা উন্মুক্ত ঘোষণা করেন।

২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দহগ্রামের সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দহগ্রাম আওয়ামী লীগ কর্তৃক আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এবং তিনি বিদ্যুৎ লাইন সংযোগ, দহগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, ১০ শয্যার হাসপাতাল, দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থাপনার উদ্বোধন করেন।
প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের আমলে দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা মিলে ১৯৮৪ সালে পূর্ণাঙ্গ ইউনিয়নের মর্যাদা লাভ করে।

দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য ও সেবা কেন্দ্রের জরিপ মতে, বর্তমানে ১৮’৬৮ হেক্টর জমির দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা এলাকায় সারে ৩ হাজার পরিবারে ২০ হাজারেরও অধিক মানুষের বসবাস। যার মধ্যে ফাঁড়ি থানা ১টি, বিওপি ক্যাম্প ২টি, ইউনিয়ন পরিষদ ১টি, সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ১টি, বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ১টি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬টি, বে-সরকারী রেজিঃ প্রাঃ বিদ্যালয় ০৪টি, দাখিল মাদরাসা ১টি, ফোরকানিয়া মাদ্রাসা ১টি, এবতেদায়ী মাদ্রাসা ১টি, কিন্ডারগার্টেন স্কুল ৪টি, ১০ শয্যার হাসপাতাল ১টি, কমিউনিটি ক্লিনিক ২টি, মসজিদ ৪০টি, মন্দির ১টি, তিস্তা ও সাঁকোয়া নামে ২টি নদী ও একটি জলমহলসহ অনেক কিছুর সমাবেশ ঘটেছে দহগ্রাম আঙ্গোরপোতায়।

তৎকালীন দহগ্রাম সংগ্রাম কমিটি’র সভাপতি ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শামসুল হক আজ বেঁচে নেই। তবে সংগ্রাম কমিটি’র সাধারণ সম্পাদক ও প্রধান শিক্ষক রেজানুর রহমান রেজা প্রধান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবে দহগ্রামবাসী। মানচিত্র রক্ষার্থে তিস্তা নদীর বাম তীর বাঁধ ও অসহায় দুঃস্থ ১৩০ পরিবারের জন্য গুচ্ছগ্রাম প্রধানমন্ত্রীর অবদান।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র হাতে বিদ্যুৎ সংযোগের পর ডিজিটাল বাংলাদেশের ছোঁয়া লেগেছে। মোবাইল টাওয়ার টেলিটক স্থাপন করা ছাড়াও সম্প্রতি ওয়াইফাই সংযোগ দেয়া হয়েছে। যোগাযোগ থেকে ভূমি রেজিঃ কোন সমস্যা নেই । আয়তনে ছোট্ট দহগ্রাম- আঙ্গারপোতা উন্নয়নের দিক থেকে বর্তমানে দেশের রোল মডেল বললেই চলে। এখানকার অধিকাংশ মানুষ কর্মজীবী এবং গবাদিপশুর উপর নির্ভরশীল রয়েছে। এখানকার মানুষ বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে প্রতিবছর ২৬ জুন তিনবিঘা করিডোর উন্মুক্ত দিবস পালন করেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।